নোটিশ :
সারা দেশে সাংবাদিক নিয়োগ দিচ্ছে "দৈনিক ভোরের হাওয়া" দ্রুত বর্ধনশীল অনলাইন সংবাদমাধ্যম Daily Bhorer Haoa সারা দেশে জেলা, উপজেলা ও ক্যাম্পাস পর্যায়ে প্রতিনিধি (সাংবাদিক) নিয়োগ দিচ্ছে। যারা সাংবাদিকতায় আগ্রহী, সংবাদ সংগ্রহ ও লেখালেখিতে দক্ষ এবং সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে চান—তাদের জন্য এটি একটি ভালো সুযোগ।
সংবাদ শিরোনাম:
মাদকসহ আটক ‘মাদক সম্রাট’কে ইউনিয়ন বিএনপি নেতার মুক্ত করার অভিযোগ, ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী এটি কোনো দল বা গোষ্ঠীর বাজেট নয়, দেশের সব মানুষের জন্য : অর্থমন্ত্রী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ খাতে বরাদ্দ বেড়ে ১০,৩৫০ কোটি টাকা ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে মুসলিম দেশগুলোর অংশগ্রহণ ও ফুটবলীয় ঐতিহ্য প্রতিরক্ষা খাতে ৪২ হাজার ২৯১ কোটি টাকার বরাদ্দ প্রস্তাব খেলাপি ঋণ নিষ্পত্তিতে মামলার আগে মধ্যস্থতায় জোর, বাজেটে নতুন উদ্যোগ স্বাস্থ্যখাতে ঐতিহাসিক বরাদ্দের প্রস্তাব, নিয়োগ পাবেন ৫ হাজার চিকিৎসক ও ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী ঘাটতি বাজেটের কঠিন পরীক্ষা: প্রতিশ্রুতির বাংলাদেশ নাকি বাস্তবতার অর্থনীতি? বাজেটে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেল ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান। ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য বড় ভ্যাট-সুবিধা আসছে বাজেটে
নরকখ্যাত মোহাম্মদপুরের মুক্তি কি আসন্ন? প্রশাসনের সদিচ্ছা, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পেশাদারিত্ব ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতাই একমাত্র পথ

নরকখ্যাত মোহাম্মদপুরের মুক্তি কি আসন্ন? প্রশাসনের সদিচ্ছা, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পেশাদারিত্ব ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতাই একমাত্র পথ

-মো. আল-আমিন,
রাজধানীর ফুসফুস খ্যাত বৃহত্তর মোহাম্মদপুর ও বসিলা অঞ্চল একসময় অপরাধের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল। মাদক, কিশোর গ্যাং, ছিনতাই আর অবৈধ দখলের জয়জয়কারে এখানকার জনজীবন ছিল অতিষ্ঠ।

তবে সাম্প্রতিক চিত্র ভিন্ন আশার কথা বলছে। বিশেষ করে বসিলায় র‍্যাব-২-এর সদর দপ্তর স্থাপনের পর থেকে এই অঞ্চলে অপরাধ দমনে যে গতি সঞ্চার হয়েছে, তা এলাকাবাসীর মনে নতুন করে আশার প্রদীপ জ্বেলেছে।

​র‍্যাব-২-এর বর্তমান অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি আনোয়ার হোসেন খানের সুযোগ্য নেতৃত্বে একঝাঁক অদম্য অফিসার ও সদস্য যেভাবে দিনরাত এক করে কাজ করছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। কিশোর গ্যাংয়ের দুর্ধর্ষ গ্রুপগুলোকে আইনের আওতায় আনা, জেনেভা ক্যাম্পসহ বিভিন্ন স্পটে সাড়াসি অভিযান এবং শীর্ষ সন্ত্রাসীদের দমনে তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি এখন দৃশ্যমান। কিন্তু প্রশ্ন জাগে—একটি মাত্র সংস্থার একক প্রচেষ্টায় কি এই বিশাল জনপদের স্থায়ী মুক্তি সম্ভব?

র‍্যাব-২ তার কর্মক্ষেত্রে সফলতার স্বাক্ষর রাখলেও থানা পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক সংস্থাকে তাদের নিজ নিজ জায়গা থেকে একই রকম ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত সততা এবং সহকর্মীদের নিয়ে আপ্রাণ চেষ্টা যদি নিয়মিত অভিযানে রূপ নেয়, তবেই কালের বিবর্তনে মোহাম্মদপুর এমন কোনো অফিসারের সাক্ষী হবে, যাঁর হাত ধরে এই অঞ্চলটি ‘নরক’ তকমা থেকে মুক্তি পাবে। এক্ষেত্রে জাতীয় আইনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে স্থানীয় পর্যায়ে কিছু কঠোর বিধিমালা প্রয়োগ করা এখন সময়ের দাবি।

মোহাম্মদপুরকে ‘কালো অধ্যায়’ থেকে মুক্ত করার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো অপরাধীদের ওপর রাজনৈতিক ছত্রছায়া। প্রশাসনের ওপর থেকে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ও অযাচিত হস্তক্ষেপ কমিয়ে আনতে পারলেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো তাদের পেশাদারিত্ব শতভাগ প্রদর্শন করতে পারবে। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে যখন একজন পুলিশ বা র‍্যাব সদস্য কাজ করবেন, তখনই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। অপরাধী যে দলেরই হোক, তার একমাত্র পরিচয় সে অপরাধী—এই সত্যটি প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

একটি অঞ্চলকে অপরাধমুক্ত করতে হলে গণমাধ্যমের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা আজ অনস্বীকার্য। সাংবাদিকরা যখন নির্ভয়ে অপরাধের চিত্র তুলে ধরতে পারেন, তখনই প্রশাসনের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত হয়। গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ বা তথ্য প্রাপ্তিতে বাধা দেওয়া আসলে অপরাধীদেরই পরোক্ষভাবে সুবিধা করে দেয়। আমরা বিশ্বাস করি, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি গণমাধ্যমকে প্রতিপক্ষ না ভেবে সহযোগী হিসেবে গ্রহণ করে, তবে অপরাধ দমনের পথ আরও মসৃণ হবে। গণমাধ্যমের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা গেলে প্রশাসনের ভেতরে লুকিয়ে থাকা কালো ভেড়াদেরও চিহ্নিত করা সহজ হবে।

এলাকার সামগ্রিক নিরাপত্তায় মোহাম্মদপুর প্রেসক্লাব এক অনন্য ভূমিকা পালনের অঙ্গীকার করেছে।প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. মহিবুল্লাহ তুষার মনে করেন, অপরাধমুক্ত সমাজ গড়তে হলে মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহকারী সাংবাদিক এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক থাকা জরুরি। তাঁর নেতৃত্বে একঝাঁক উদ্যমী তরুণ ও অভিজ্ঞ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সমন্বয়ে গঠিত বর্তমান কমিটি র‍্যাব-২-এর সাথে সর্বাত্মক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।এই প্রেসক্লাবের মূল লক্ষ্য কেবল সংবাদ পরিবেশন নয়, বরং সঠিক তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহায়তা করা এবং সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগের প্রতিফলন ঘটানো।সাংবাদিক ও র‍্যাব-২-এর এই যৌথ সমন্বয় যদি আরও সুসংহত হয়, তবে মোহাম্মদপুরের প্রতিটি গলি থেকে অপরাধীদের শিকড় উপড়ে ফেলা সম্ভব হবে।

বসিলায় র‍্যাব-২-এর সফল পদযাত্রা প্রমাণ করেছে যে, সদিচ্ছা থাকলে পরিবর্তন সম্ভব। তবে এই অগ্রযাত্রাকে টেকসই করতে থানা পুলিশ ও সিভিল প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে গণমাধ্যমের সাথে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে সজাগ দৃষ্টি, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পেশাদারিত্ব এবং সাংবাদিকদের অবাধ তথ্য সংগ্রহের স্বাধীনতা নিশ্চিত হলে মোহাম্মদপুর হবে শান্তির এক অনন্য জনপদ। সেই মুক্তির দিনটি দেখার অপেক্ষায় আজ বৃহত্তর মোহাম্মদপুরবাসী।

মো:আল-আমিন
নির্বাহী সম্পাদক
দৈনিক ভোরের হাওয়া

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে ভাগ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক ভোরের হাওয়া © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Desing & Developed BY ThemeNeed.com